
বিদ্যমান সংবিধান অক্ষুণ্ণ রাখা কিংবা বাহাত্তরের সংবিধানে ফিরে যাওয়ার লক্ষ্যে এ দেশের ছাত্র-জনতা বুকের রক্ত দিয়ে জুলাই অভ্যুত্থান করেনি বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান। দেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও রাষ্ট্রীয় সংস্কার নিয়ে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, গণভোটে জনগণ জুলাই সনদের পক্ষে সুস্পষ্ট রায় দেওয়া সত্ত্বেও সরকার তা উপেক্ষা করে পুরোনো কর্তৃত্ববাদী সংবিধানকে সুরক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করছে।
মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, অভ্যুত্থান-পরবর্তী সরকার অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন ধারায় দেশ পরিচালনার প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে পুরোনো ব্যবস্থার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। কথা বলার পরিবেশ কিছুটা তৈরি হলেও রাষ্ট্রে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি এবং জনদুর্ভোগের কোনো মৌলিক পরিবর্তন আসেনি। বিশেষ করে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনা না করেই বারবার বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করে তুলছে।
সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে তিনি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় দীর্ঘ সময় ব্যয় করে সব রাজনৈতিক দল যেসব বিষয়ে একমত হয়েছিল এবং যার ভিত্তিতে জনগণ গণভোটে রায় দিয়েছিল, সংসদ অধিবেশনের প্রথম দিনেই তা অবজ্ঞা করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, জুলাই সনদের অঙ্গীকার অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার কথা থাকলেও তা পালন করা হয়নি। তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে পুনর্ব্যক্ত করেন যে, এই সংবিধান বহাল রাখা বা বাহাত্তরের সংবিধানে ফিরে যাওয়ার জন্য এত মানুষ জীবন দেয়নি।
ইসলামী আন্দোলনের এই নেতা আরও অভিযোগ করেন, ফ্যাসিবাদের যেসব অনুষঙ্গ ব্যবহার করে অতীতে কর্তৃত্ববাদী শাসন কায়েম করা হয়েছিল, নিজেদের সুবিধার্থে সরকার এখন সেগুলো টিকিয়ে রাখার পাঁয়তারা করছে। তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছর করার বিষয়ে সর্বজনীন ঐক্যমত থাকলেও তা এখন বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। জনগণের প্রত্যাশা ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নে গড়িমসি করলে সরকারের ক্ষমতায় থাকার নৈতিক ভিত্তি নষ্ট হবে উল্লেখ করে তিনি অবিলম্বে জনগণের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী দেশকে সঠিক সংস্কারের ধারায় ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান।
